
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন মেঠির (৬৫) উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে একই দলের অপর এক নেতার বিরুদ্ধে। তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি নুর নবী এ হামলা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন নুরুল আমিন।
এই ঘটনার প্রতিবাদে ও হামলাকারীর বিচারের দাবিতে বুধবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে মান্দারী ইউনিয়নের গন্ধর্ব্যপুর গ্রামের ভাবলাতলা এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে স্থানীয় এলাকাবাসী। সেখানে উপস্থিতরা নুর নবীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে নুরুল আমিন মেঠি বলেন, গত ১১ অক্টোবর তেওয়ারীগঞ্জের হিরামন বাজার এলাকায় এক আত্মীয়ের জমি পরিমাপের কাজে তিনি গিয়েছিলেন। সেখানে এক পক্ষের হয়ে উপস্থিত ছিলেন নুর নবীও। পরদিন ১২ অক্টোবর সকালে নিজের বাড়ির পাশে ভাবলাতলায় অবস্থানকালে নুর নবী অতর্কিতভাবে এসে তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এলাকায় আমার একটি অবস্থান আছে। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই নুর নবী আমাকে মারধর করেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
নুরুল আমিন আরও অভিযোগ করেন, নুর নবী এলাকার সাধারণ মানুষকেও বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি ও নির্যাতনের মাধ্যমে হয়রানি করেন। তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে নুর নবীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
নুরুল আমিনের ছেলে কবির হোসেন বলেন, “আমার বাবার উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। আমরা এর ন্যায্য বিচার চাই।”
একই পরিবারের সদস্য হোসেন আহম্মদ বলেন, জমি পরিমাপের সময় কোনো ঝামেলা হয়নি, কিন্তু পরদিন হঠাৎ নুর নবী এসে নুরুল আমিনের উপর হামলা চালায়।
মান্দারী ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য শামছুন নাহার বলেন, তিনি বিষয়টি স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনেছেন এবং নুরুল আমিনের উপর হামলার ঘটনা সত্য বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন ফটিক অভিযোগ করেন, তেওয়ারীগঞ্জ বাজারে তার দোকানের দ্বিতীয় তলার কাজ শুরু করলে নুর নবী চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। কিন্তু নুর নবীরা প্রভাব খাটিয়ে আমার কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। আমি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে এর সুষ্ঠু প্রতিকার চাই।”
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে নুর নবী বলেন, “আমি ও নুরুল আমিন একটি জমি পরিমাপের কাজে গিয়েছিলাম। পরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়, কিন্তু আমি তাকে মারিনি।”
চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বাজারের ভবনটি নিয়ে তার বড় ভাই ও আনোয়ার হোসেন ফটিকের মধ্যে বিরোধ রয়েছে, যা আদালতে বিচারাধীন। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য উকিল বৈঠকে চার লাখ টাকার সমঝোতা হয়েছিল, কিন্তু ফটিক পরে টাকা উঠিয়ে নিয়ে বিষয়টি চাঁদাবাজি হিসেবে প্রচার করছে বলে দাবি করেন নুর নবী।