সপরিবারে শীতার্তদের পাশে ইউএনও
রায়পুর প্রতিনিধি
জানুয়ারী ০৬, ২০২৬, ১০:৪৭
তীব্র শীতের রাতে যখন চারপাশ নিস্তব্ধ, অধিকাংশ মানুষ যখন উষ্ণ বিছানায় ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক সেই সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ালেন লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার। সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে তিনি রায়পুর উপজেলার ২নং উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের পুরান বেরীর চান্দার খাল সংলগ্ন মেঘনা নদী এলাকায় নৌকায় ভাসমান প্রায় ৪০টি অসহায় পরিবারের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন।
চান্দার খালের এই এলাকাটি মূলত মেঘনা নদী ঘেঁষা একটি নৌকাভিত্তিক জনপদ। এখানকার অনেক পরিবার বছরের পর বছর নৌকায় বসবাস করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কেউ কেউ নদীতে মাছ ধরে, কেউ নৌকা চালিয়ে কিংবা দিনমজুরির কাজ করে জীবিকা চালান। স্থায়ী ঘরবাড়ি না থাকায় শীত মৌসুমে এসব পরিবার সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ে। বিশেষ করে রাতের বেলায় খোলা আকাশের নিচে কিংবা নৌকার ভেতরে শীত নিবারণের কোনো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে থাকেন।
শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব ভাসমান মানুষের কষ্ট আরও তীব্র আকার ধারণ করে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গভীর রাতেই সরাসরি ঘটনাস্থলে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান কাউছার। নৌকায় করে একে একে ভাসমান পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছে তিনি নিজ হাতে কম্বল তুলে দেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী মিস সাথী আক্তার এবং তাদের সন্তানও। পরিবারসহ এমন মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে আলাদা মাত্রার অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে।
কম্বল পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন ভাসমান মানুষজন। অনেকেই জানান, শীতের এমন রাতে প্রশাসনের কেউ তাদের খোঁজ নিতে আসবেন, এমনটা তারা কল্পনাও করেননি। ইউএনওর উপস্থিতি ও আন্তরিক আচরণ তাদের মাঝে সাহস ও ভরসা জুগিয়েছে।
কম্বল পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ভাসমান মানুষজন। ১৪ বছর বয়সী রায়হান বলেন, “সারারাত খুব ঠান্ডা লাগে। গায়ে কিছু থাকে না। আজ কম্বল পাইছি, এখন আর এত ঠান্ডা লাগবে না।”
একজন ভাসমান পুরুষ সফি সরদার বলেন,
“আমরা গরিব মানুষ, নৌকায় থাকি। শীতে খুব কষ্ট হয়। এই রাতে স্যার নিজে নৌকায় আইসা কম্বল দিছেন, এইটা আমরা কোনোদিন ভুলব না।”
এক নারী ভাসমান বাসিন্দা চবুরা খাতুন বলেন, “বাচ্চা লইয়া রাতে কষ্টে থাকি। শীতের সময় আল্লাহই জানে কেমন কষ্ট হয়। আজ কম্বল পাইছি, মনে শান্তি লাগতেছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, “শীত মৌসুমে সমাজের সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের দায়িত্ব। যারা নৌকায় বা নদীর পাড়ে বসবাস করেন, তাদের কষ্ট অনেক বেশি। এই সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী জানান, প্রশাসনের এমন উদ্যোগ শুধু ত্রাণ বিতরণেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি মানবিক দায়িত্ববোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি জানান।
শীতের এই কঠিন সময়ে নৌকায় ভাসমান অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে উপজেলা প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
